Logo
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩১ PM || প্রকাশের তারিখঃ ২২ মে, ২০২৬, ১১:৪৫ PM

ডুমুরিয়ায় জমে উঠেছে কুরবানির পশুর হাট,দাম নিয়ে সন্তুষ্ট ক্রেতারা

News Image

খান আরিফুজ্জামান(নয়ন), ডুমুরিয়া(খুলনা),প্রতিনিধিঃ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে খুলনা জেলার অন্যতম বড় পশুর হাট ডুমুরিয়ার শাহপুর পশুর বেচাকেনা পুরোদমে জমে উঠেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে এই হাট। এ বছর প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত গরুর মজুত থাকায় এ হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি বেশ লক্ষণীয়।  সরেজমিনে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী শাহপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে লোক সমাগম শুরু হলেও মূলত দুপুর ১২টার পর বাজার পুরোপুরি জমে ওঠে। শুধুমাত্র খুলনা জেলাই নয় বরং পার্শ্ববর্তী যশোর  ও সাতক্ষীরা জেলা থেকেও অসংখ্য ক্রেতা-বিক্রেতা এবং পাইকারি ব্যবসায়ীরা এই হাটে এসে ভিড় জমিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহপুর বণিক সমিতির সভাপতি এ.কে.এম জাফর ইকবল বলেন, আনুমানিক ১০০ বছর এই পশুর হাটটি গড়ে ওঠে। শুধুমাত্র কোরবানির ঈদেই নয়, সারা বছর জুড়েই প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার এই বাজারে গবাদিপশু বেচাকেনা করেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। 
শাহপুর বাজার পশুর হাট কমিটির সভাপতি আব্দুর রব আকুঞ্জি বলেন, 'খুলনার খবরের"  সঙ্গে আলাপকালে বলেন, এই হাটে ৭০ হাজার টাকার নিচের পশুর জন্য ক্রেতারা  ৫০০ টাকা করে এবং  ১ লাখ পর্যন্ত ১ হাজার ও ১ লাখ  টাকার অধিক মূল্যের পশুর জন্য ক্রেতাদের  ১৫০০ টাকা’ টাকা করে হাসিল বা টোল দিতে হয়। এই হাটে সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি পাইকারি ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
বাজারে শাহিওয়াল, ফ্রিজিয়ান ও অস্ট্রেলিয়ানসহ বিভিন্ন শংকর জাতের বড় আকৃতির গরুর প্রচুর সরবরাহ থাকলেও ক্রেতাদের মূল আকর্ষণ ও চাহিদা ছিল দেশি প্রজাতির গরুর দিকে। বিশেষ করে ৯০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের দেশি গরুর চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি।
জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার খরসঙ্গ গ্রামের খামারি হালিম সরদার নিজের গোয়ালে লালন-পালন করা ২ টি দেশি গরু নিয়ে বাজারে এসেছেন। তিনি গরুটির দাম ৭  লাখ টাকা হাঁকালেও ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। 
বাজারে যশোর ও সাতক্ষীরা জেলা থেকে আসা বেশ কয়েকজন পাইকারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এই হাট থেকে গরু কিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বড় বড় হাটে সরবরাহ করবেন। ঈদের আরও বেশ কিছুদিন বাকি থাকায় হাটে আসা অধিকাংশ ক্রেতাই মূলত বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি এবং দরদাম যাচাই-বাছাই করতে এসেছেন। তবে দামে মিলে যাওয়ায় অনেকেই আবার পছন্দের পশু কিনে বাড়ি ফিরছেন।
 ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া  গ্রামের ক্রেতা সোনা মিয়া বাজারে এসে নিজের পছন্দের গরু কিনেছেন। তিনি বলেন, আজকের বাজারের দরদাম ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যই বেশ সহনশীল এবং মাঝারি ধরনের মনে হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষই আশা করছেন, ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, বাজারে পশুর বেচাকেনা আরও বৃদ্ধি পাবে।
ডুমুরিয়া উপজেলা  প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আশরাফুল কবির বলেন, ‘এ বছর ডুমুরিয়ায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। চাহিদার তুলনায় প্রায় ২০ হাজার বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। ফলে জেলার বাইরে থেকে পশু আনার কোনো প্রয়োজন হবে না। এছাড়া হাটে আসা পশুদের রোগমুক্ত ও স্টেরয়েডমুক্ত হওয়া নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে  ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম নিয়োজিত রয়েছে।’ ডুমুরিয়া উপজেলা  প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় সর্বমোট ৪ টি স্থায়ী পশুর হাট বসেছে।উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আসন্ন ঈদের প্রস্তুতিমূলক সভায় পশুর হাটের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়সহ যেকোনো ধরনের অনিয়ম রোধে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সাথে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, জাল টাকা শনাক্তকরণ এবং মলম পার্টি বা অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পশুর হাটগুলোতে সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।